এইতো সেদিন যখন পলাশীর প্রান্তরে বাংলার শেষ নবাব সিরাজ পরাজিত হলেন - তারপর থেকে শুরু হয়েছিল সেই প্রান্তরে এক বিরল ইকোসিস্টেম। আজ খানিকটা সেই ইকোসিস্টেম নিয়েই কয়েকটা লাইন লিখব -
সিরাজের পরাজয়ের পর প্রান্তরে মানুষের রক্তের সথে মাটি মিশে মাটির উর্বরতা এত গুণে বৃদ্ধি পেয়ে গিয়েছিল যে অনেক কচি ঘাস, লতাপাতা জন্মানো শুরু করেছিল। ইংরেজরাও ছিল প্রকৃতিপ্রেমী তাই তারা সে প্রান্তরে পশু, পাখি, বানর, গরু - ছাগল ছাড়া আর কাউকে বিচরণ করার সুযোগ দিত না এমনকি আজ অব্দি সে প্রান্তরে মানুষকে বিচরণের অনুমতি দেয় নাই। এত দীর্ঘ সময় ধরে মানুষের বিচরণ না থাকায় বর্তমানে সে প্রান্তরের ইকোসিস্টেম বায়োলজির এক বিশাল গবেষণার কেন্দ্র হয়ে উঠেছে।
আমার ক্ষুদ্র জ্ঞানে যতটুকু উপলব্ধি করতে পেরেছি আজ তাই নিয়েই কিছু লিখার প্রচেষ্টা / অপচেষ্টা:
প্রান্তরে এখন অনেক ঘাস, কচিকচি লুকলুকে সবুজ ঘাস, লতাপাতা জন্মেছে। সেখানে চড়ে বেড়ায় প্রায় 20 কোটি কম/বেশি গরু, গাই, বলদ, ভেরা, রাম- ছাগল, কুকুর, বেড়াল, ভোঁদড়। আর সেই আম গাছের ডালের উপরে বসবাস করছে বিভিন্ন বয়সের অনেক গুলি বানর। সাদা বানর, লাল বানর, নীল বানর, শ্যামলা বানর, খাটো বানর, লম্বা বানর, দাড়িওয়ালা বানর, ভুঁড়িওয়ালা বানর, মাকুন্দা বানর, পেটি বানর, পটকা বানর। কত শত সহস্র বানর। তবে এই বানর গুলির মধ্যে 2 টা ধরন লক্ষ করা যায়। দুষ্ট বানর আর অল্প দুষ্ট বানর। নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চল বলেই হয়ত জীব বৈচিত্র্যে পৃথিবীর আর কোথাও এমন জীব বৈচিত্র্য পাওয়া যায় না। ইউরুপ, আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য কোথাও না।
চারণ ভূমির সুমিষ্ট ঘাস খেয়ে গরু ছাগল গুলির উৎপাদন খুব উন্নত ধরনের হয়। খুব সুস্বাদু দুধ। যার পনির, মাঠা, ছানা আবার ঝোপ ঝাড়ে লুকিয়ে থাকা শিয়াল গুলির খুব পছন্দ। এমনকি সিরাজ দাদুরে যুদ্ধে হারিয়ে দেওয়া সেই ইংরেজদের পোষা সাদা শিয়ালের খুব পছন্দের।
ঝোপের শিয়ালগুলি গাই, গরু মহিষ গুলির দুধ সংগ্রহ করে পনির বানিয়ে খায় খুব তৃপ্তি সহকারে। ইকোসিস্টেম প্রাণী থাকবে আর সেখানে সামান্য দ্বন্দ্ব থাকবেনা তা কি হয়?
না হয় না। এই সবুজে শ্যামলে ভরা সোনালী ইকোসিস্টেম এও আছে কিছু দ্বন্দ্ব - গাছের বানর গুলি উপর থেকে শিয়ালের কর্মকান্ড দেখে আর চিন্তা ভাবনা করে পনিরের ভাগ কিভাবে পাওয়া যায়। যেই ভাবনা সেই কাজ - বানর গুলি ও মাঝে মধ্যে ২/১ টা করে গাছ থেকে লাফিয়ে পড়ে পনিরের উপর। শিয়াল ও ভাগাভাগি করে চালিয়ে নেয় তাদের রসনা বিলাস। তবে এখানেও ঘটে এক ধরনের বিপত্তি - ইংরেজরা তো এইসব দেখে খুব খুশি হয়। আনন্দ উপভোগ করে। আবার ইংরেজদের পয়সা কুকুর টমীদের আবার এই গাছ থেকে পড়া বানরের পুটকুনি নিয়ে ব্যাপক কৌতূহল। তাই মাঝে মধ্যে ২/৪/৫ টা বানর নিয়ে যায় তাদের দেশে। মনোরঞ্জন করায় তাদের পোষা টমীদের। আবার নিজেরাও কিছুকাল তাদের লম্ফঝম্ফ উপভোগ করে। এরপর যখন বৃদ্ধ হয়ে যায় বানর গুলি থওখন তাদের আবার এই পলাশীর প্রান্তরে ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে যায়।
এতক্ষণ তো সব কিছু ঠিকঠাক ই মনে হইলো তাই না? আসলে বিপত্তিটা শুরুহয় এইখান থেকেই। বৃদ্ধ বানর গুলি আর তেমন গাছে বসবাস করতে পারে না। পারে না এক ডাল থেকে অন্য ডালে লাফ দিতে। দীর্ঘদিন টমীদের শারীরিক নির্যাতনের ওলে তাদের গতি খুব মন্থর হয়ে যায়। হারিয়ে ফেলে তাদের সেই যৌবনের জোশ। তাই তাদের ঠিকানা এই ইকোসিস্টেমের শিয়ালের গর্তের আসে পাশেই হয়। শিয়ালগুলিও নিজেদের টমীদের মত মনোরঞ্জন করে এই বৃদ্ধ বানর গুলিকে ব্যবহার করে। বিনিময়ে সেই পুরোনো স্বাদের পনির খেতে পারে বানর গুলি।
বেঁচে যাওয়া বা নষ্ট হওয়া পনির গুলির শেষ ঠিকানা হয় নেড়ি কুত্তা গুলির। যাদেরকে পনির দিয়ে দিয়ে শিয়াল গুলি খুব পোষ মানিয়ে নিয়েছে । যেন চারণ ভূমির গরু ছাগলকে কন্ট্রোল করে । এতে শিয়ালের কষ্ট কম হয় দুধ সংগ্রহে।
কি সুন্দর এই পলাশীর ইকোসিস্টেম। আজ প্রায় শত পৃষ্ঠার পলাশীর ইকোসিস্টেম এর ১ম অংশ এখানেই শেষ করছি। হয়ত আগামীতে এক এক করে আরো লিখব
- ইনশাল্লাহ।

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন